পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের এপিঠ ওপিঠ

পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের এপিঠ ওপিঠ

পার্ল হারবার

পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের এপিঠ ওপিঠ
লেখিকাঃ জান্নাত খাতুন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সম্পাদক, হাভার টার্ক।
পার্ল হারবার ইনসিডেন্ট বা ঘটনা এমন একটি যা শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয় বরং পুরো পৃথিবীর মানচিত্রই বদলে দিয়েছে। পার্ল হারবার ইনসিডেন্ট কেন এবং কীভাবে ঘটেছিলো? এর কারণ কী ছিলো এবং এর ফলাফল কী ছিলো? যদি এই ঘটনা না হতো তাহলে কী আজকের পৃথিবী অন্য রকম হতো? চলুন এ সম্পর্কে পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের এপিঠ ওপিঠে জানা যাক। ১৮৫৩ সালে জাপান তাঁর আইসোলেশন নীতি বা সারা পৃথিবী থেকে পৃথক থাকার নীতি শেষ করে সারা পৃথিবীর বাণিজ্যের জন্য জাপানের দরজা খুলে দেয়। জাপানে ১৮৬৮ সালের মেইজি রিস্টোরেশনের (Meiji Restoration) ফলে জায়গীর ব্যবস্থা বা জমিদারি ব্যবস্থা শেষ হয়ে যায় এবং শিল্প দ্রুত উন্নতি লাভ করতে থাকে। জাপান একটি দ্বীপ দেশ এর ফলে জাপানে প্রাকৃতিক কাঁচামালের পরিমাণ কম ছিলো। জাপান প্রাকৃতিক কাঁচামালের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। ১৮৯৪ সালে প্রথম সিনো-জাপানিজ যুদ্ধের (First Sino-Japanese War) পর জাপান শিমোনোস্কি চুক্তি (Treaty of Shimonoseki) অনুসারে চীনের তৎকালীন কিং সাম্রাজ্যের দ্বীপ তাইওয়ান এবং লিয়াওডং পেনিনসুলা দখল করে নেয়। এরপরও জাপান তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতি বজায় রাখে এবং রুশ সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে ১৯১০ সালে কোরিয়ান পেনিনসুলাকে দখল করে নেয়। এরপর জাপান চীনের আরও অনেক এলাকা দখল করে নেয়। ১৯৩৭ সালে দ্বিতীয় সিনো-জাপানিজ যুদ্ধ (Second Sino-Japanese War) শুরু হয়। এই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় আর জাপান জার্মানি ও ইতালির সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি(Tripartite Pact) করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ও ইতালির জোট সঙ্গী হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘন করে জাপানকে তেল এবং ধাতুর সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া আমেরিকায় থাকা জাপানের সম্পদগুলোকেও ফ্রিজ করে দেয়। জাপানের কাছাকাছি থাকা ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশগুলো তখন জাপানের সাথে প্রায় যুদ্ধাবস্থায় ছিলো। জাপান তেল এবং স্টিলের আমদানির ওপর প্রচুর পরিমাণে নির্ভর করতো। তাই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তেল ও স্টিলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া জাপানের জন্য অনেক বড় সমস্যা সৃষ্টি করে।
জাপানের জন্য তেল অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যে কোন মূল্যে জাপান তেল সংগ্রহ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। জাপানের জন্য এই সমস্যার সমাধান ছিলো যে কোন তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ পূর্ব এশিয় দেশ দখল করে সেই দেশের তেল ব্যবহার করা। জাপানের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার তেল সমৃদ্ধ কোন দেশ দখল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো আমেরিকা। তখন আমেরিকার সৈন্য শুধু এই এলাকায় মোতায়েনই ছিলো এবং আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ হাওয়াই এর ওহুর পার্ল হারবারে আমেরিকার একটি বড় নৌবহরও মোতায়েন ছিলো। জাপান যদি কোন দক্ষিণ পূর্ব এশিয় দেশে আক্রমণ করে তাহলে আমেরিকা পার্ল হারবারে মোতায়েন থাকা নৌ বহর দিয়েই এই দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারতো। তাই ইম্পিরিয়েল জাপানিজ নেভির (Imperial Japanese Navy) কমান্ডার এডমিরাল ইসোরোকো ইয়ামামোটো (Admiral Isoroku Yamamoto) সিদ্ধান্ত নিলেন পার্ল হারবারে থাকা আমেরিকার নৌ বহরকে ধংস করার। কারণ এর মাধ্যমে জাপান নিশ্চিন্তে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার তেল সমৃদ্ধ দেশ দখল করতে পারবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত ছিলো। কারণ আমেরিকা তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ এবং তৎকালীন সময়ের একটি শক্তিশালী দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাপানের আমেরিকার নৌ বহর ধংস করার সিদ্বান্তের জন্য জাপানকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারতো। তাও এডমিরাল ইসোরোকো ইয়ামামোটো পার্ল হারবারে হামলার সিদ্বান্ত নেন। পার্ল হারবার জাপান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত। এছাড়া পার্ল হারবারে প্রবেশের সরু পথ এবং অগভীর সমুদ্রের জন্য সামুদ্রিক হামলা করা কঠিন ছিলো। তাই এডমিরাল ইসোরোকো ইয়ামামোটো পার্ল হারবারে বিমান হামলার সিদ্বান্ত নিলেন। এজন্য জাপানের বিমানবাহিনী কাগোশিমায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। জাপান এই হামলার প্রস্তুতিকে পুরোপুরি গোপন রাখে এবং যেই পাইলটরা হামলা করতে যাচ্ছিলো তাদেরকেও এ ব্যাপারে কিছু জানায় নি।
জাপান তিনটি হামলায় এই অভিযান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়। প্রথমে জাপানের বিমান বাহিনী সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধ বিমানগুলোকে ধংস করবে। যাতে করে আমেরিকা জবাবি হামলা করতে সক্ষম না থাকে। তারপর আমেরিকার নৌ বহর ধংস করবে এবং সর্বশেষ ফিউল স্টোরেজ ট্যাংক বা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ধংস করবে ও মিলিটারি ওয়ার্কশপ ধংস করবে। ১৯৪১ সালের ২৬ শে নভেম্বর ইম্পেরিয়াল জাপানিজ নেভির ভাইস এডমিরাল চুইচি নাগুমোর (Chūichi Nagumo) নেতৃত্বে জাপানি নৌ বহর পার্ল হারবারের দিকে রওনা হয়। জাপানি নৌ বহরে ৬ টি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারে ৪১৪ টি যুদ্ধ বিমান, ২ টি যুদ্ধ জাহাজ, ৯ টি ডেসট্রয়ার, ২৩টি ফ্লিট সাবমেরিন এবং ৫ টি মিজেট সাবমেরিনসহ আরও কিছু সামরিক সরঞ্জাম ছিলো। ওহু দ্বীপের উত্তর দিকে পাহাড় থাকায় আমেরিকার রেডার সিস্টেম জাপানি নৌ বহরকে সনাক্ত করতে পারে নি। ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর ভোরে জাপানি নৌ বহর ওহু দ্বীপের মাত্র ২৩০ মাইল দূরে অবস্থান করছিলো। ভোর ৬ টা ১০ মিনিটে ১৮৩ টি বিমান পার্ল হারবারে হামলার জন্য টেক অফ করছিলো। এই সময়েই পাইলটদের জানানো হয় তারা পার্ল হারবারে হামলা করতে যাচ্ছে। সকাল ৭ টা ২ মিনিটে আমেরিকার রেডার সিস্টেম অজানা এয়ারক্রাফটের অস্তিত্ব সনাক্ত করে। কিন্তু দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা এই তথ্যকে গুরুত্ব দেয় নি। তারা মনে করেছিলো এটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আগত আমেরিকান বিমান হতে পারে। সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে পার্ল হারবারের কাছে প্রথম হামলা করার জন্য পৌঁছে যায়। অবাক করা ভাবে সেই সময় কোন আমেরিকান বিমান আকাশে টহল দিচ্ছিলো না। সকাল ৭ টা ৪৯ মিনিটে ক্যাপ্টেন মিটসো ফুচিদা (Mitsuo Fuchida) পাইলটদের ফায়ার করার নির্দেশ দেন। ৭ টা ৫৫ মিনিটে জাপানি বিমানগুলো ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিকল্পনা মোতাবেক আমেরিকার নৌ ঘাঁটি ও বিমান ঘাঁটিতে হামলা করে। আমেরিকা জাপানের ব্যাপারে সতর্ক ছিলো এবং গোয়েন্দা তথ্যও ছিলো। আমেরিকা মনে করেছিলো জাপান ফিলিপাইনে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে। কিন্তু আমেরিকা কোনভাবেই তাঁর নিজের ভূমি পার্ল হারবারে হামলার আশংকা করছিলো না।
হামলার দিন পার্ল হারবারে ৮ টি ব্যাটেল শিপ সহ ছোট ছোট ১০০ টি যুদ্ধ জাহাজ ছিলো। সেদিন আমেরিকার তিনটি বিমানবাহী রণতরী কিংবা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের একটিও পার্ল হারবারে মোতায়েন ছিলো না। এক জাপানি পাইলট আমেরিকার জাহাজ ইউএসএস এরিজোনার (USS Arizona) ওপর বোমা বর্ষণ করে। যা ৯ মিনিটেরও কম সময়ে ১১০০ জন মানুষসহ তলিয়ে যায়। আরেক জাপানি পাইলট ইউএসএস অকলাহামার (USS Oklahoma) ওপর বোমা বর্ষণ করে। আর এই জাহাজটিও ৪০০ জন মানুষসহ ডুবে যায়। প্রায় ১ ঘন্টা পর আরও ১৬৭ টি যুদ্ধ বিমান পার্ল হারবারে হামলা করার জন্য আসে। ততক্ষণে আমেরিকার নৌ বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠে এবং জাপানের বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে জবাবি হামলা শুরু করে। সকাল ১০ টায় জাপানি বিমানগুলো হামলা শেষ করে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে পৌঁছে যায়। এসময় ভাইস এডমিরাল চুইচি নাগুমো (Chūichi Nagumo) কোন রিস্ক না নিয়ে তৃতীয় হামলার পরিকল্পনা বাতিল করে জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। তৃতীয় হামলা বাতিল করার আরেকটি কারণ হলো জাপানের হামলার আসল লক্ষ্য আমেরিকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের পার্ল হারবারে উপস্থিত না থাকা। পার্ল হারবারে জাপানের হামলায় ১৮০ টি আমেরিকান যুদ্ধ বিমান পুরোপুরি ধংস হয়ে যায়। আমেরিকার ২ টি ব্যাটেল শিপ ডুবে যায়। বাকী ৬ টি ব্যাটেল শিপেরও যথেষ্ট ক্ষতি হয়। কিন্তু ঐ ব্যাটেল শিপগুলোকে মেরামত করে আবারও নৌ বাহিনীতে যুক্ত করা হয়। ২৩০০ আমেরিকান নিহত ও ১১০০ আমেরিকান আহত হয়। যাদের মধ্যে বেসামরিক লোকও ছিলো। আমেরিকার জবাবি হামলায় ২৯ টি জাপানি যুদ্ধ বিমান পুরোপুরি ধংস হয়ে যায় এবং বেশ কিছু যুদ্ধ বিমানের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। জাপানের ৫ টি সাবমেরিন ধংস হয় এবং ৬০ জন জাপানি নিহত হয়। পার্ল হারবার হামলার পর অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক দাবি করেন যে, ব্রিটেন জাপানের এই পরিকল্পনার ব্যাপারে আগে থেকেই জানতো।
কিন্তু তারা আমেরিকাকে এই হামলা সম্পর্কে জানায় নি। যাতে করে আমেরিকাও এই যুদ্ধে পড়তে পারে। এছাড়া অনেক ঐতিহাসিক দাবি করেন যে, আমেরিকার ডিপ স্টেটও এ ব্যাপারে জানতো। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার যোগদানের উপযুক্ত কারণের জন্য আমেরিকা তাঁর নিজের ভূমিতে জাপানকে হামলা করতে দিয়েছে। যদিও অনেক ঐতিহাসিক এই দাবি অস্বীকার করেন। জাপান তাঁর পরিকল্পনা মোতাবেক আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী, ফিউল স্টোরেজ ট্যাংক এবং মিলিটারি ওয়ার্কশপ ধংস করতে পারেন নি। যার ফলে জাপান আহত বাঘকে জীবিত ছেড়ে এসেছিলো। যে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী বিপদজনক। আমেরিকা পার্ল হারবারে হামলার পূর্ব পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয় নি। শুধু জোটসঙ্গীদের অস্ত্র সরবরাহ করতো। পার্ল হারবারে হামলার পর আমেরিকান জনগণের মধ্যে দুঃখ ও ক্ষোভ বাড়ছিলো। তাই পার্ল হারবার হামলার পর দিন ১৯৪১ সালের ৮ ই ডিসেম্বর ধারণা মোতাবেক আমেরিকান কংগ্রেস জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে আমেরিকা সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের জোটসঙ্গী জার্মানি ১৯৪১ সালের ১১ ই ডিসেম্বর আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে এই ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পরিণত হয়। এরপর ১৯৪৫ সালের ৬ ই আগষ্ট ও ৯ ই আগষ্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা জাপানের জন্য বিপর্যয় ও পরাজয় ডেকে আনে। যাকে পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের জবাবি ঘটনা বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে যদি দেখা হয়, তাহলে পার্ল হারবারে হামলা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি শক্তিশালী জোটসঙ্গী জুটিয়ে দেয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। যার ফলাফল মিত্র শক্তির বিজয়। পার্ল হারবার ইনসিডেন্টই ছিলো সেই ঘটনা যা আমেরিকাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে টেনে আনে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সকল ঘটনার পর আজ আমেরিকাই বর্তমান বিশ্বের প্রমাণিত একমাত্র সুপারপাওয়ার। পার্ল হারবারে জাপান আক্রমণ না করলে হয়তো আমেরিকা এত তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করতো না। পৃথিবীর ইতিহাস হয়তো ভিন্ন কিছু হতো।
[সমাপ্ত]
[কমেন্টে জানান কেমন লাগলো পার্ল হারবার ইনসিডেন্টের এপিঠ ওপিঠ]
তথ্যসূত্রঃ Meiji Restoration | Summary, Effects,
Social Changes। Britannica
Meiji Restoration – Wikipedia [English]
Meiji Restoration – New World
Encyclopedia
Treaty of Shimonoseki – Wikipedia
First Sino-Japanese War – Wikipedia
Tripartite Pact – Wikipedia [English]
Tripartite Pact | Definition, History,
Significance, & Facts | Britannica
Attack on Pearl Harbor – Wikipedia
Pearl Harbor: Attack, Casualties &
Facts – HISTORY
Pearl Harbor attack | Date, History,
Map, Casualties, Timeline, & Facts
Isoroku Yamamoto – Wikipedia
Hitler, Mussolini Join Japan In World
War Upon America-BUFFALO EVENING
NEWS – December 11, 1941.
www.independent.org
World Atlas
Japan Strike Over Weekend – HILO
Tribune Harland – November 10, 1941.
War Ends At Japan Quits, Today
Thursday Are Legal Holiday – August
15, 1941.
U.S Declares War Against Japanese
– Ashland Daily Independent –
December 8, 1941.
Business Insider.
Day Of Deceit The Truth About FDR
AND PEARL HARBOR – By Robert B.
Stinnett With A New After Word.

Leave a Comment