হায়রে টাকা দিয়েও মায়ের বুকের দুধ আমার কপালে জুটল না

জীবনের গল্প

জীবনের গল্প

মা বাবার ডিভোর্স! আমার জীবনের গল্প এটা।
আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তখন আমার বয়স মাত্র ৩ মাস। মা বাবার সিদ্ধান্ত আর এক সাথে নয় এবার আলাদা থাকবেন। আমার দাদা দাদী অনেক বোঝালেন মা বাবাকে কিন্তু তারা মানেনি। দাদীর কথা এই দুধের শিশুর কি হবে তোরা এই কাজ করিস না আলাদা হোস না তোরা। কিন্তু ওদের স্বার্থের কাছে ওরা নিজেদের বিসর্জন দিয়েছে। আমার স্বার্থ তাদের অন্তরের একবারের জন্য ও আঘাত করেনি। ডিভোর্স এর জন্য যখন তারা আদালতে হাজির সাথে আমার দাদীও গেলেন আমি আমার দাদীর কোলেই ছিলাম। কাঠগড়ায় একপাশে মা আর আর পাশে আমার বাবা। আমি দাদীর কোলেই। জর্জ সাহেবকে মা বাবা নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন।

আপত্তি আমি??? মা বলেন আমি ওদের সন্তান নিতে চাইনা। বাবাও বলেন আমিও চাইনা। কিন্তু রায় হলো আমাকে বাবাই লালন পালন করবেন। কিন্তু রায় সেতো মানতেই হবে। এবার আমার দাদি উঠে বললেন আমার কিছু কথা আছে স্যার।
জর্জ ঠিক আছে বলেন দাদী বললো স্যার আমার একটা অনুরোধ আছে ঃ আমার নাতীনকে ওর মা অন্তত ৬ মাস বুকের দুধ পান করিয়ে দিক। তারপর ওকে নিয়ে আসবো। বিনিময়ে ওদের আমি ছয় হাজার টাকা দিবো। দাদীর কথা স্যার বোঝলেন তাই হলো আমাকে মা ছয় মাস দুধ পান করাবেন। কোর্টেই টাকা পরিশোধ হলো। মানেই মায়ের বুকের দুধ আমার কপালে জুটবে কিন্তু টাকা দিয়ে কিনে। মা আমাকে নিয়ে গেল তার সাথে। পরের দিন আমার মামা আমাকে নিয়ে হাজির আমার দাদা বাড়ি।
এসে দাদীকে বলছে আপনাদের নাতীন আপনারাই রাখেন আর এই আপনাদের টাকা। আমরা ওর সাথে আর কোন সম্পর্ক রাখবো না। হাইরে টাকা দিয়েও মায়ের বুকের দুধ আমার কপালে জুটল না।

এবার বাবা মনে মনে বললেন এই মেয়েকে অযথা লালন পালন করে লাভ কি ছেলে হলে পালতাম। তাই কাউকে কিছু না বলেই দত্তক দেবার জন্য মানুষ বের করলেন। দুইদিন পর আমাকে দত্তক নিতে চলে এলো তারা। অবশ্য ঐ সময়টা আমার দাদী বাসায় ছিলেন না আমার জন্য দুধ কিনতে গেছিলেন আমার ছোট ফুফুর কাছে রেখে। ফুফুর বয়স তখন ১৪ বছর ছোট।
দাদী বাড়ি এসে দেখে ফুফু কাদছে। দাদী বললো কি হয়েছে। ফুফু কাদছে আর বলছে ” মা বড়ভাই পারুল কে দত্তক দিয়ে দিয়েছে ওরা পারুল কে নিয়ে গেছে”” এই কথা শুনে আমার দাদী আমার বাবাকে হাতের কাছে একটা লাকড়ি ছিলো সেটা দিয়ে একটা বাড়ি মারলেন এবং বলেন তোর এত বড় সাহস তুই আমার নাতিনকে দত্তক দিস?? আমি কি মরে গেছি??

এই বলে আমার দাদী আমার ফুফুকে নিয়ে সেই বাড়িতে গিয়ে আমাকে কেড়ে নিয়ে আসেন…….. সেই থেকে আমি মানুষ আমার দাদা দাদীর কাছে…….. এখন আমার দাদা দাদীই আমার পৃথিবী। ছোটকালে তো তাদেরই মা আর বাবা বলতাম। এখনো আমার মনে আছে। তারপর আমার বাবাও বিয়ে করে মায়েরও বিয়ে হয়। কিন্তু যখন আমার ১২ বছর হয় তখন আমার মা বাবা আবার বিয়ে করেন। আবার তারা একসাথে হোন। কিন্তু তাদের জীবনে আমি কখনোই ছিলাম না। তারা আমাকে ডাকতো ও না লালনপালন ও করতো না। আমি দাদীর কাছেই থাকতাম। কিন্তু তাদের দ্বিতীয় বার ও সংসার হলোনা। সেই আবার কোর্ট

এই আমি আবার কাঠগড়ায় কিন্তু আমার দাদীর কোলে আর নই এবার নিজের পায়ে দাড়িয়ে। আমার প্রচুর ভয় করছে এই টুকু বয়সে পুলিশ দেখলেই ভয় পেতাম আর জর্জ???? জর্জ সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করছে তুমি কার কাছে থাকতে চাও তোমার মা নাকি বাবার কাছে…… আমি কাঁদছি

ভয় পেয়োনা বলো তুমি মা কার কাছে থাকতে চাও। আমার কান্না পাচ্ছিলো আমার দাদির জন্য। আমি তাকে ছারা থাকতে পারবোনা। কাদতে কাদতে বললাম আমি দাদীর কাছে থাকতে চাই।।। আমি দেখলাম দাদিও কাদছে। জর্জ এর রায় বাবা সব দায়িত্ব নিবে। তারপর তাই হলো বাবার দায়িত্ব আমাকে বাড়ি পর্যন্ত আনা। এনে তিনি তারমতো সংসার করছেন। আমার দাদিই আমাকে তার কাছে রাখেন বড় করেন কলেজে পড়ান। আমার বাবা আমার এতটুকু বয়সে কোননদিন দুই টাকার চকলেট ও আমাকে কিনে দেননি। সব দায়িত্ব আমার দাদী নেন। আমার দাদি এখনো আমাকে জড়িয়ে নিয়ে নিয়ে কাদেন। বলেন আমি যখন দুধের জন্য কানতাম আমার দাদির তখন বুক ফেটে যেত।

আমার সেই দাদী আজও তার আচল তলে আমাকে এভাবেই আগলে রেখেছেন। দাদির মুখে শুনেছি আমি ছেলে হলে আমার মাও তার কাছে আমাকে রাখতেন। দাদির মুখে নিজের জীবনের গল্প শুনে আর আমার বুঝ হবার পর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সিদ্ধান্ত নেই আমি একজন ল’ ইয়ার হবো। এবং ডিভোর্স ল’ইয়ার। কারন জানি একজন মেয়ে হলে সে কতটা বোঝা হয় সবচেয়ে আপন মানুষের কাছেও। আজ আমি ল নিয়েই পরছি এখনো কম্পলিট হয়নি। কিন্তু যেদিন ল’ ইয়ার হবো সেদিন ডিভোর্স ল’ ইয়ারই হবো। এতে কিছু করতে পারি আর না পারি অন্তত এই টুকু চেস্টা করবো যেন কোন সন্তান মা বাবা ছারা না হয়। কারন আমার দাদি আমাকে সব দিয়েছে কিন্তু তবুও আমার মনে ইচ্ছে জাগতো যদি আমি মা বাবকে দুই পাশে রেখে একটা রাত ঘুমাতে পারতাম।

আজ আমার দাদীর বয়স ৭০ কাছাকাছি আর দাদা ৯০। তবুও তারা আজো আমাকে আগলে রেখেছেন। অনেক কাদি আমি কিকরে তাদের এই ঋণ শুধাবো???? আরো দুইটা মানুষ আমার এই জটিল জীবনে অতিথী হয়ে এসেছে আমার স্বামী ও আমার সন্তান। এই আমি পারুল। আর এটাই আমার জীবন।
“এই পণ্যের গুনগত মান আমি নিয়ম মেনে পরীক্ষা করে এইখানে আমার পণ্যের পরিচিত পোস্ট করছি। এই পণ্যের সমস্ত দ্বায়ভার আমারই। এই পণ্যের ক্রয়বিক্রয়ের সাথে উই কোন ভাবে সম্পৃক্ত নয় এবং উই কোন দ্বায়ভার বহন করে না”
নাটোর থেকে
পারুল
কাজ করছি
রাজশাহীর শাল ও নাটোরের খাঁটি খেজুরের গুড় নিয়ে

https://www.facebook.com/profile.php?id=100023120892328

Leave a Comment