এক কথাতেও বদলে যায় জীবন

নির্মল জীবন

নির্মল জীবন

এক কথাতেও বদলে যায় জীবন
একদিন হাসান বসরি গেলেন একটি জানাযায়। জানাযাটি ছিল বিখ্যাত কবি ফারাযদাকের স্ত্রী নাওয়ার বিনতে আইয়ানের। নাওয়ার ইন্তেকালের আগে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন তার জানাযা যেন হাসান বসরি পড়ান। জানাযায় হাসান বসরির সাথে ফারাযদাক নিজেও উপস্থিত ছিল। সে বলে উঠলো, হযরত লোকেরা আমাদেরকে একসাথে দেখে ভাবছে বসরার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ আজ বসরার সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের সাথে। হাসান বসরি বললেন, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। আমি যেমন বসরার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ নই, তুমিও তেমন বসরার সবচেয়ে খারাপ মানুষ নও। বসরায় কত মুশরিক কাফের আছে যারা তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট। আবার আমার চেয়ে উত্তম কত মানুষও এই বসরায় আছে। যাক, তুমি আমাকে শুধু এটুকু বলো, মৃত্যুর জন্য তুমি কী কী প্রস্তুতি নিয়েছ?
“আমি তো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বিশ্বাস করি’ ফারাযদাক বললো। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে তো কিছু শর্ত চলে আসে।
তওবার কোনো পথ আছে?’
‘কেন নয়? তওবা করে নাও ভুল থেকে। ওয়াদা কর আল্লাহর কাছে সামনে আর এমন করবে না’
ফারাযদাক তখনই তওবা করে নেয়। সে বলে আমি সামনে আর কখনো অতীতের কোনো গুনাহ করবো না। এর কিছুদিন পর সে মারা যায়। কেউ একজন তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করে তোমার কী অবস্থা? ফারাযদাক বলে, আমি হাসান বসরির সাথে যে ওয়াদা করেছি তার বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিয়েছেন।
ফারাজদাক ছিলেন আরবের বিখ্যাত কবি। সাহাবিদের কাউকে কাউকে তিনি দেখেছিলেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহর সামনে তওবা করার পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল যার প্রভাব পড়েছিল তার কাব্যচর্চায়ও। তার এক কবিতায় তিনি লিখেছিলেন, বনু দারিমের ওই সদস্য ব্যর্থ যার গলায় শিকল পরিয়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামের দিকে।
ফারাজদাকের তওবার ঘটনায় রয়েছে সুন্দর শিক্ষা। অনেক সময় সামান্য কথাতেও মানুষের মাঝে চলে আসে বিরাট পরিবর্তন। দাঈদের জন্য আবশ্যক হলো এই বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা। একজন দাঈ সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন। যখনই সুযোগ দেখবেন সাথে সাথেই তিনি দাওয়াত দিবেন। হেদায়াতের দাওয়াত, তাওহিদের দাওয়াত, আমলের দাওয়াত। কথা কম হোক, সমস্যা নেই। অন্তর ঘুরানোর মালিক তো আল্লাহ। তিনি অন্তর ঘুরিয়ে দিলে কার কী করার আছে।
নির্মল জীবন থেকে
ইমরান রাইহান

Leave a Comment